ফিচার

নড়াইলে এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান এম.পি’র সফল দুগ্ধ খামারি হিসেবে স্বপ্নপূরণ

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : শ্রম আর সাধনায় আজ “সফল দুগ্ধ খামারি হওয়ার” দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান এমপি’র । “বাঁধন ডেইরি এন্ড এগ্রো” নামে এই সফল খামারের মালিক এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান। তিনি নড়াইল-২ আসনের এমপি (সংসদ সদস্য, নড়াইল-লোহাগড়া) এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নড়াইল জেলা সভাপতি। সকাল-সন্ধ্যা নানা জনসেবামুলক কাজের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষকে দুগ্ধ সেবাও দিচ্ছেন।
জানা গেছে, নড়াইলের লক্ষীপাশা গ্রামে ২০০৪ সালে বিভিন্ন প্রজাতির মাত্র ৪টি গরু দিয়ে নিজ বাড়িতে গরুর খামারের যাত্রা শুরু করেন এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান। আস্তে আস্তে খামারে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাই ২০০৯ সালে তিনি খামারটি স্থানান্তর করেন কচুবাড়িয়া গ্রামে। প্রায় এক একর জমিতে খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খামারে ছোট-বড় দিয়ে গরুর সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে রয়েছে ১৬টি বাছুর, ২০টি গাভী এবং ২৩ টি ষাঢ়(এঁড়ে)। বর্তমান বাজার দরে ৫৯ টি গরুর মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। খামারের মধ্যেই গো-খাদ্য ঘাষ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
খামারের অন্যতম পরিচর্যাকারী মোঃ জাকির হোসেন কাজী জানান, প্রতিদিন ২০টি গাভীতে প্রায় ২৫০ লিটার দুধ দেয়। খামার থেকেও দুধ বিক্রি হয়। প্রতি কেজি দুধ ৫০/৬০ টাকা বিক্রি হয়। খামারের বাছুর, গাভী এবং ষাঁড় বিক্রি করছি। সর্বনিন্ম এক লাখ টাকা, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা দামের ফ্রিজিয়ান প্রজাতি, ইন্ডিয়ান শংকর প্রজাতির, ন্যাড়া মুন্ডু প্রজাতির ও মিশন প্রজাতির গরু রয়েছে এই খামারে। খামারে বাছুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রয়েছে বেতনভুক্ত ৪/৫ জন কর্মচারী।
খামারের আরেকজন পরিচর্যাকারী আহাদুজ্জামান ডলার জানান, “বাঁধন ডেইরি এন্ড এগ্রো” খামারের মালিক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান প্রায় প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খামারে গিয়ে খামারের দেখভাল করেন। এমনকি  খামারের মালিকের সহধর্মীনি নিজেও খামারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা করেন। চিকিৎসার ব্যাপারে স্থানীয় পশু সম্পদ অফিস সহযোগিতা করে থাকে।
রাজুপুর গ্রামের গৃহবধু রাশিদা বেগম ও লক্ষীপাশা গ্রামের যুবক সাহেব আলী বলেন, শিশুদের জন্য এই খামারের খাঁটি দুধ সংগ্রহ করি। এলাকার মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
খামারের মালিক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, গরুর খামারের উপর আমার অনেক মমত্ববোধ রয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে সহধর্মীনি নিলুফা ইয়াসমিন খামারের দেখভাল করেন। আস্তে-আস্তে করে শ্রম-সাধনা দিয়ে “বাঁধন ডেইরি এন্ড এগ্রো” নামের এ প্রতিষ্ঠানটি বড় করেছি। এই খামারের খাঁটি গরুর দুধ এলাকার মানুষের অনেক চাহিদা পূরণ করছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের প্রতি তিনি গো-খাদ্যের উপর ভর্তুকি চালুর দাবি করেন। তিনি খামারটি আরো অনেক বড় করতে চান।
এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান আরো বলেন, বেশি বেশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেকেই খামার করতে আগ্রহী হবে। তিনি বর্তমান সরকারের গরু মোটা-তাজা করণ প্রকল্প এই খামারে শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, একটি ভাল খামার করবার ইচ্ছে ছিল যুবক বয়সেই। এই খামার প্রতিষ্ঠার পর থানার সামনে খাঁটি গরুর দুধের নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পুরুষ-মহিলারা এসে খাঁটি দুধ কিনে নেয়। মানুষ দুগ্ধ সেবা পাচ্ছে।

ফিচার | আরো খবর